_copy7.webp)

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনি জোট গঠন নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অভ্যন্তরে শুরু থেকেই মতবিরোধ ছিল। এ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে একের পর এক দল ছাড়ছেন নেত্রীরা। সর্বশেষ দলটির যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সামান্তা শারমিন। এর আগে দল ছেড়েছেন সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা ও যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন।
জামায়াতের সঙ্গে জোট, দলের আদর্শিক অবস্থান এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি তুলে তারা পদত্যাগ করেন। তাদের অভিযোগ, এই রাজনৈতিক সমঝোতার মধ্য দিয়ে এনসিপি তার প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা থেকে সরে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সামান্তা শারমিন দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি লেখেন, প্রায় এক বছর আগে এনসিপির জোট গঠনের প্রশ্নে নিজের ভিন্ন অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন। সে সময় তার বক্তব্য ছিল, জামায়াতে ইসলামী নীতিগত কিংবা কৌশলগত কোনো দিক থেকেই এনসিপির মিত্র হওয়ার উপযুক্ত নয়। দলটির সঙ্গে জোট করতে গেলে এনসিপিকে বড় মূল্য দিতে হবে বলেও সতর্ক করেছিলেন তিনি।
এর আগে, গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করেন ডা. তাসনিম জারা। একই দিন নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে তিনি কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রার্থী না হয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান।
ঢাকা-৯ আসনের খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদার বাসিন্দাদের উদ্দেশে দেওয়া পোস্টে তাসনিম জারা লিখেছিলেন, রাজনৈতিক দলের প্ল্যাটফর্ম থেকে সংসদে গিয়ে এলাকার মানুষ ও দেশের সেবা করার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে না লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
তাসনিম জারার পদত্যাগের পরদিন, ২৮ ডিসেম্বর এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়কের পদ ছাড়েন তাজনূভা জাবীন। ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে নিজের আপত্তির কথা তুলে ধরেন তিনি।
জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে এনসিপির আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই দলটির ভেতরে মতপার্থক্য দেখা দেয়। তাসনিম জারার পদত্যাগের দিনই জামায়াতের সঙ্গে জোট না করার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলামকে চিঠি দেন এনসিপির ৩০ নেতা।
চিঠিতে তারা উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে রাজনৈতিক জোট বা আসন সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে যে আলোচনা সামনে এসেছে, তা এনসিপির ঘোষিত আদর্শ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা এবং গণতান্ত্রিক নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের বিভাজনমূলক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, অন্য দলের অভ্যন্তরে গুপ্তচরবৃত্তি ও নাশকতার চেষ্টা, এনসিপির ওপর বিভিন্ন অপকর্মের দায় চাপানো এবং দলের নারী সদস্যদের চরিত্রহননের চেষ্টা উদ্বেগজনক। এ ছাড়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা ও ওই সময় সংঘটিত অপরাধের বিষয়ে দলটির অবস্থান এনসিপির মূল্যবোধের সঙ্গে মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
নেতাদের আশঙ্কা ছিল, জামায়াতের সঙ্গে জোট হলে এনসিপির রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নতুন, নীতিনিষ্ঠ ও ভবিষ্যতমুখী রাজনীতির প্রত্যাশায় যারা দলটির পাশে এসেছেন, তাদের মধ্যে হতাশা ও বিভ্রান্তি তৈরি হবে। এ কারণে নাহিদ ইসলামকে জামায়াতের সঙ্গে জোটে না যাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন তারা। তবে এসব আপত্তি সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন করে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
তাসনিম জারার পদত্যাগ
২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে দল ছাড়ার কথা জানান তাসনিম জারা। এনসিপির দলীয় গ্রুপে সহযোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, দলটিতে দেড় বছরের পথচলায় অনেক কিছু শিখেছেন। এ জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি তাদের জন্য শুভকামনাও জানান।
একই দিন খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদার বাসিন্দাদের উদ্দেশে দেওয়া পোস্টে নিজেকে ওই এলাকার মেয়ে হিসেবে পরিচয় দেন তিনি। খিলগাঁওয়ে জন্ম ও বেড়ে ওঠার কথা উল্লেখ করে তাসনিম জারা জানান, রাজনৈতিক দলের প্ল্যাটফর্ম থেকে সংসদে গিয়ে এলাকার মানুষ ও দেশের সেবা করার ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতির কারণে কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রার্থী না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ কারণে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পোস্টে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন তাসনিম জারা। তার ভাষ্য, কোনো দলের প্রার্থী হলে স্থানীয় কার্যালয়, সুসংগঠিত কর্মীবাহিনী এবং সরকার ও প্রশাসনের সঙ্গে নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলার সুযোগ থাকে। কিন্তু দলীয় পরিচয়ের বাইরে থাকায় এসব সুবিধা তার থাকবে না।
তাজনূভা জাবীনের পদত্যাগ
তাসনিম জারার পদত্যাগের পরদিন ২৮ ডিসেম্বর এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়কের পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন তাজনূভা জাবীন। জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতার পাশাপাশি জোট গঠনের পুরো প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে তাজনূভা লেখেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটে তার আপত্তির কারণ শুধু ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট কিংবা নারী ইস্যু নয়। তার কাছে আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, যে প্রক্রিয়ায় জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটিকে নিছক রাজনৈতিক কৌশল বা নির্বাচনি জোট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং পরিকল্পিতভাবে পুরো বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রার্থী মনোনয়ন ও আসন সমঝোতার মাধ্যমে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ সংকুচিত করার অভিযোগও তোলেন তাজনূভা।
তিনি বলেন, এনসিপির প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্য, গণপরিষদ, সেকেন্ড রিপাবলিক, মধ্যপন্থি রাজনীতি, নারী ও বিভিন্ন জাতিসত্তাকে নিয়ে রাজনীতির ধারণার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে দল ছাড়ার আগে আর কোনো সম্মানজনক বিকল্প তার সামনে ছিল না।
জামায়াতের সঙ্গে জোটের সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাজনূভা। তার মতে, এনসিপি নিজস্ব পরিচয় ও স্বকীয়তা নিয়ে দাঁড়ালে পাঁচ বছর পর যেকোনো দলের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট করতে পারত। কিন্তু প্রথম নির্বাচনেই কেন জোট করতে হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর তিনি পাননি।
তার অভিযোগ, বিকল্প রাজনৈতিক পথগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে জামায়াতের সঙ্গে জোট ছাড়া অন্য কোনো সুযোগ অবশিষ্ট না থাকে। তাজনূভার ভাষায়, পদত্যাগের পেছনে জোটের বিষয়টির চেয়ে জোট গঠনের প্রক্রিয়া, অবিশ্বাস ও অনাস্থা বেশি দায়ী।
এনসিপির শীর্ষ নেতাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নিজেদের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত নেতৃত্বের পক্ষে দেশের জন্য নতুন মধ্যপন্থি ও বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে না।
সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ফেসবুক পোস্টে এনসিপি ছাড়ার ঘোষণা দেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। তিনি জানান, প্রায় এক বছর ধরে জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়ে দলের ভেতরে নিজের ভিন্নমত তুলে ধরেছেন।
সামান্তার পোস্টের একটি অংশে বলা হয়, জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতার পেছনে তার নীতিগত অবস্থান ছিল। তার মতে, জামায়াত কোনো বিবেচনাতেই এনসিপির রাজনৈতিক মিত্র হওয়ার যোগ্য নয়। দলটির সঙ্গে জোট করলে এনসিপিকে এর জন্য কঠিন মূল্য দিতে হবে।
‘সংস্কারের বন্ধু জামায়াত হতে পারে কিনা’ শিরোনামে দেওয়া বিস্তারিত ব্যাখ্যায় এনসিপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য হিসেবে সংস্কারের কথা তুলে ধরেন সামান্তা। তার মতে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথে বিদ্যমান ক্ষমতা কাঠামো যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে জন্য সাংবিধানিক সংস্কার, আইনের সংস্কার এবং রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলের সংস্কার জরুরি।
সামান্তার দাবি, জামায়াতে ইসলামী এই তিন ধরনের সংস্কারের কোনোটিকেই নিজেদের রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার অংশ মনে করে না। তার মতে, দলটি প্রকৃত অর্থে সংস্কারের রাজনীতি ধারণ করে না। সংগঠনটির দার্শনিক ভিত্তি ও প্রস্তাবিত রাষ্ট্রব্যবস্থাও গণতান্ত্রিক নয়।
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কারের ভিত্তি হলো উদার গণতান্ত্রিক সামাজিক মূল্যবোধ। অন্যদিকে জামায়াত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিপন্থি। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই দলটির রাজনৈতিক অভিপ্রায় বলে মনে করেন তিনি।
সামান্তার ভাষ্য, জামায়াতকে সংস্কারের সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করায় বাংলাদেশের উদার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী সাধারণ মানুষ এনসিপির সংস্কারের রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। দলের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট না থাকায় এনসিপি জামায়াতের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন ইস্যুতে দলটিকে জামায়াতের পক্ষে প্রতিক্রিয়ামূলক ও সহায়ক ভূমিকাও নিতে হচ্ছে।
জনগণের আকাঙ্ক্ষা থেকে গড়ে ওঠা দল হিসেবে এনসিপিকে এসব বিষয়ে বারবার সতর্ক করে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান সামান্তা।
জামায়াতের সঙ্গে জোট নিয়ে মতবিরোধ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি জোট গঠন নিয়ে এনসিপির নেতাদের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা এবং সে সময়ের অপরাধের জন্য দলটির ক্ষমা না চাওয়ার বিষয়টি সামনে এনে অনেক নেতা এই জোটের বিরোধিতা করেন।
তবে শেষ পর্যন্ত নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন ও হাসনাত আবদুল্লাহদের নেতৃত্বে এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়। নির্বাচনে জোটটি ছয়টি আসনে জয়ী হয়।
পদত্যাগী নেত্রীদের বক্তব্য ও অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রত্যাশা থেকে এনসিপির সরে যাওয়ার বিষয়টি। তাদের আশঙ্কা, জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক ঐক্যের কারণে এনসিপি নিজস্ব পরিচয় ও স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান হারাতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে দলটি জামায়াতের রাজনীতির মধ্যে বিলীন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে বলে মনে করেন তারা।
রাজনীতি নিয়ে আরও পড়ুন


.webp.webp&w=2048&q=75)


সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সর্বশেষ খবরের নির্ভুল গন্তব্য কলম২৪। বাংলাদেশ ও বিশ্বমঞ্চের ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা কিংবা বিনোদনের সব খবর—সবার আগে আপনার হাতের মুঠোয়। খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি
স্বত্ব© কলম২৪ (২০২৬)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।