_copy7.webp)
.webp&w=2048&q=75)
কোনো ডিসেম্বরেই কোনো আপার দেশে আসার সুযোগ নেই বলে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। আসলে ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত আছে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আগামী ডিসেম্বর মাসে মনে হয় কেউ দেশে আসতে চাচ্ছে। আপনারা কি প্রস্তুত আছেন? জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যেভাবে প্রস্তুত ছিলাম, এবারও কি সেভাবে প্রস্তুত আছি? এবার কি আগের চেয়ে বেশি হবে, না কম হবে?’
তিনি বলেন, ‘আগেরবার আমরা অনেক উদারতা দেখিয়েছি। আমরা ক্ষমা করে দিয়েছিলাম। আমরা বলেছিলাম, ওসমান হাদির ভাষায়, শত্রুর প্রতি আমরা ইনসাফ করব, ন্যায়বিচার করব। কিন্তু গত দুই বছরে আমরা কোনো বিচার পাইনি। আমরা ওসমান হাদি হত্যার বিচার পাইনি। জুলাইয়ে আমাদের যেসব ভাই-বোন শহীদ হয়েছেন, তাদের হত্যারও বিচার পাইনি।’
বিচার না পেলে জনগণ নিজেরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষ যদি ন্যায়বিচার না পায়, তখন জনগণ নিজেই প্রতিরোধ শুরু করে। ডিসেম্বর আমাদের প্রতিরোধের মাস, আমাদের বিজয়ের মাস। একাত্তরে বিজয় লাভ করেছি, চব্বিশেও বিজয় লাভ করেছি। ২০২৬ সালেও বিজয় লাভ করব ইনশাআল্লাহ। আগামী সব ডিসেম্বরেই বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা বিজয় লাভ করবে।’
উপস্থিত শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘বাংলাদেশের ছাত্রজনতা এখনো ঘুমায় যায় নাই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ঘুমায় পড়ে নাই। আপনাদেরকে সেটার প্রমাণ দিতে হবে। আপনাদের সিনিয়র যারা তারা আন্দোলন করে গিয়েছে। আপনাদের কাজ সেটার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। কোনো ফ্যাসিবাদের জায়গা বিশ্ববিদ্যালয় হবে না, বাংলাদেশ রাষ্ট্রে হবে না।’
বিশ্ববিদ্যালয়জীবন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শুধু ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার গঠনের সময় নয়, বরং দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনেরও সময়। বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন, পরিবহন ও শ্রেণিকক্ষ সংকট নিরসনে রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়িত্ব নিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে র্যাগিং, ছাত্র নির্যাতন, গেস্টরুম ও গণরুম সংস্কৃতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়ন চালানো হয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে।
ছাত্রসংগঠনগুলোর ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল ও উপহার দিয়ে মন জয় করাই ছাত্রসংগঠনের কাজ নয়। শিক্ষার্থীদের আবাসন, পরিবহন ও শ্রেণিকক্ষ সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আন্দোলন করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই প্রকৃত ছাত্ররাজনীতির দায়িত্ব।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গঠন, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আধিপত্যবাদ প্রতিরোধ এবং গণতন্ত্র নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ সময় শিক্ষার্থীদের যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জাতীয় ছাত্রশক্তির নোবিপ্রবি শাখার আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংগঠনটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজনীতি নিয়ে আরও পড়ুন

.webp&w=2048&q=75)
.webp&w=2048&q=75)


সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সর্বশেষ খবরের নির্ভুল গন্তব্য কলম২৪। বাংলাদেশ ও বিশ্বমঞ্চের ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা কিংবা বিনোদনের সব খবর—সবার আগে আপনার হাতের মুঠোয়। খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি
স্বত্ব© কলম২৪ (২০২৬)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।