home icon
Login

অনুসরণ করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store


বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে

মো. নূর নবী শেখ
ডেস্ক রিপোর্টকলম২৪.কম

আপডেট: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৬:১৬

Facebook
Twitter

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ইতিহাসের সর্বনিম্ন ৪.১৭ শতাংশে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এটি গত তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধির রেকর্ড এবং টানা সাত মাস ধরে এই প্রবৃদ্ধির হার ৫ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে।

এর মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে বিরাজমান স্থবিরতার একটি চিত্র ফুটে উঠেছে। বেসরকারি খাতে নতুন বিনিয়োগের গতি থমকে গেছে। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, উচ্চ সুদহার, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় নতুন প্রকল্প হাতে নিতে সাহস পাচ্ছেন না উদ্যোক্তারা। অনেক ব্যবসায়ী এখন নতুন কারখানা স্থাপন বা উৎপাদন বাড়ানোর বদলে পুরনো ঋণ ও দায় সামলাতেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। এতে ব্যাংকঋণের চাহিদা কমে গেছে। ব্যাংকগুলোতে বিপুল পরিমাণ অর্থ অলস পড়ে থাকলেও নতুন ঋণ বিতরণ বাড়ছে না।রাজনৈতিক খবর পড়ুন

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে নেমেছে।

আগের মাস আগস্টে এই হার ছিল ৪.৭৫ শতাংশ। এর আগে জুনে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৪.৪৭ শতাংশ এবং জুলাইয়ে ৪.৬২ শতাংশ। মার্চ ও এপ্রিলে এই হার ছিল ৪.৭২ শতাংশ। মে মাসে সামান্য বেড়ে ৪.৯৮ শতাংশ হলেও এরপর আবার কমতে থাকে।

সব মিলিয়ে টানা সাত মাস ধরে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বর্তমান প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক নিচে থাকায় নির্ধারিত সময়ে এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে।মানচিত্র দেখুন

ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার প্রধান কারণসমূহ:

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট: দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্পকারখানাগুলো তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছে না। ফলে নতুন কারখানা স্থাপন বা উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর আগ্রহ হারিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

উচ্চ সুদহার ও খেলাপি ঋণের (NPL) চাপ: ব্যাংক খাতে ঋণের সুদের হার অনেক বেশি হওয়ার কারণে উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ রেকর্ড ৬.০৬ ট্রিলিয়ন টাকায় (মোট ঋণের ৩২.৭৮%) পৌঁছানোয় ব্যাংকগুলোও নতুন ঋণ বিতরণে চরম সতর্কতা অবলম্বন করছে।

চাহিদা ও বিনিয়োগে স্থবিরতা: অভ্যন্তরীণ এবং রপ্তানি বাজারে পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় বড় বড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের প্রয়োজনীয়তা কমে গেছে। এছাড়া বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তন-পরবর্তী ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তাও এর জন্য বড় দায়ী।

সরকারি বন্ডে ব্যাংকের বিনিয়োগ: ঋণ নেওয়ার মতো নির্ভরযোগ্য বা ভালো গ্রাহক না পাওয়ায় ব্যাংকগুলো তাদের উদ্বৃত্ত অর্থ বেসরকারি খাতে না দিয়ে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে রেকর্ড পরিমাণে বিনিয়োগ করছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ৬.৮ শতাংশ, যা বর্তমান অর্জনের চেয়ে অনেক বেশি।মানচিত্র দেখুন

অর্থনীতির ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব

ব্যাংক খাতের ঋণ হলো শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও ব্যবসার মূল চালিকাশক্তি। এই প্রবৃদ্ধি যদি দীর্ঘ সময় ধরে ৮.৩৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে কম থাকে (যা বর্তমানে রয়েছে), তবে বাস্তবে প্রকৃত ঋণ প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক (Negative) হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলে দেশের সামগ্রিক জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং বাজারে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ব্যাহত হতে পারে। যদিও সরকার বন্ধ কারখানা চালু ও উৎপাদন বাড়াতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, তবে ব্যাংকগুলোর তারল্য ও নীতিমালার জটিলতায় সেখান থেকেও ঋণ বিতরণের গতি বেশ ধীর।



অনুসরণ করুন

logologologologologo

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সর্বশেষ খবরের নির্ভুল গন্তব্য কলম২৪। বাংলাদেশ ও বিশ্বমঞ্চের ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা কিংবা বিনোদনের সব খবর—সবার আগে আপনার হাতের মুঠোয়। খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন।

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি

স্বত্ব© কলম২৪ (২০২৬)

ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।