৮ নভেম্বর ২০২৬
preview
সকালে খালি পেটে কোন চা উপকারী, জানালেন পুষ্টিবিদ

মো. নূর নবী শেখ

সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক কাপ চা পান করা অনেকের দৈনন্দিন অভ্যাস। কেউ দুধ চা, কেউ গ্রিন টি, আবার কেউ লেবু চা দিয়ে দিনের শুরু করেন। তবে খালি পেটে চা পান করা শরীরের জন্য কতটা উপকারী, তা নিয়ে রয়েছে নানা মত। পুষ্টিবিদদের মতে, বিষয়টি নির্ভর করে চায়ের ধরন এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর। কোনো চা খালি পেটে পান করা তুলনামূলক ভালো হতে পারে, আবার কোনোটি থেকে দেখা দিতে পারে পেটের অস্বস্তি।

যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত পুষ্টিবিদ লরেন ম্যানেকারের মতে, সকালে খালি পেটে চা পান করলে কিছু উপকার পাওয়া যেতে পারে। তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে এটি অস্বস্তির কারণও হতে পারে। চায়ের ধরন এবং ব্যক্তির হজমক্ষমতা অনুযায়ী এর প্রভাব ভিন্ন হয়।

গ্রিন টি ও ব্ল্যাক টি : কোনটি ভালো?

ওজন নিয়ন্ত্রণ ও সুস্থ থাকার আশায় অনেকেই সকালে খালি পেটে গ্রিন টি পান করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সবার জন্য উপযুক্ত নয়। পুষ্টিবিদ লরেন ম্যানেকার জানান, খালি পেটে গ্রিন টি বা ব্ল্যাক টি পান করলে কারও কারও বমিভাব ও অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে। এসব চায়ে থাকা ক্যাফেইন পেটে অস্বস্তিও তৈরি করতে পারে। তাই যাঁদের এ ধরনের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের হালকা কিছু খাওয়ার পর চা পান করা ভালো।

গ্রিন টি ও ব্ল্যাক টি—দুই ধরনের চায়েই রয়েছে পলিফেনল নামের উপকারী উদ্ভিজ্জ উপাদান। তবে এই উপাদান খাবার থেকে আয়রন শোষণে বাধা দিতে পারে। বিশেষ করে ডাল, শাকসবজি, বাদাম ও শস্যজাতীয় খাবারে থাকা নন-হিম আয়রন শোষণ কমাতে পারে এসব চা। মাংস, মাছ ও মুরগিতে থাকা হিম আয়রন শোষণেও কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে, যদিও তা তুলনামূলক কম।

এ কারণে যাঁদের রক্তস্বল্পতা বা আয়রনের ঘাটতি রয়েছে, তাঁদের খাবারের সঙ্গে চা পান না করাই ভালো। খাবারের অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে বা পরে চা পান করলে আয়রন শোষণে এর প্রভাব কমানো সম্ভব।

খালি পেটে হারবাল চা কেমন?

ক্যামোমাইল ও আদা দিয়ে তৈরি হারবাল চা হজমে সহায়ক হতে পারে। পুষ্টিবিদ লরেন ম্যানেকারের মতে, ক্যামোমাইল ও আদা চা পেটের অস্বস্তি কমাতে এবং হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করতে পারে। এ ধরনের চা তুলনামূলক কোমল হওয়ায় সকালে খালি পেটে পান করলেও অস্বস্তির আশঙ্কা কম।

তবে আরেক পুষ্টিবিদ জেসিকা স্ট্রনের মতে, ক্যামোমাইল চা খালি পেটে পান করা ভালো হলেও আদা চা খাবারের সঙ্গে পান করলে বেশি উপকার পাওয়া যেতে পারে। কারণ, আদা পাকস্থলী থেকে খাবার অন্ত্রে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে এবং হজমে সহায়তা করতে পারে।

হিবিসকাস চাও কিছু ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের খাবার খাওয়ার পর রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাদের জন্য এই চা সহায়ক হতে পারে। এটি রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে রক্তচাপের ওষুধ গ্রহণকারীদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হিবিসকাস চাকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে নেওয়া উচিত নয়।

পুদিনা চা খালি পেটে কিংবা খাবারের পর—দুই সময়েই পান করা যায়। তবে খাবারের পর পান করলে পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

ওলং, মরিঙ্গা ও কম্বুচা কখন পান করবেন?

গ্রিন টি ও ব্ল্যাক টি ছাড়াও অন্য চা পানের ক্ষেত্রেও সময় গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের সঙ্গে ওলং চা পান করলে ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

অন্যদিকে, মরিঙ্গা বা সজনে পাতার চা আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে পান করলে আয়রন শোষণে সহায়ক হতে পারে। আর কম্বুচায় থাকা প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক উপাদান অন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং হজমপ্রক্রিয়ার জন্য উপকারী হতে পারে। এ কারণে খাবারের সঙ্গে বা পরে কম্বুচা পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সকালে কোন চা পান করা ভালো?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সবার জন্য একই ধরনের চা বা একই সময় নির্ধারণ করা ঠিক নয়। সকালে খালি পেটে চা পান করলে বমিভাব, বুকজ্বালা কিংবা পেটে অস্বস্তি হলে আগে হালকা কিছু খেয়ে নেওয়া ভালো।

যাদের আয়রনের ঘাটতি বা রক্তস্বল্পতা রয়েছে, তাদের গ্রিন টি ও ব্ল্যাক টি খাবারের সঙ্গে পান করা এড়িয়ে চলা উচিত। অন্যদিকে, ক্যামোমাইল চা সকালে খালি পেটে পান করার ক্ষেত্রে তুলনামূলক ভালো বিকল্প হতে পারে।

সব মিলিয়ে, চা পানের উপকারিতা পেতে শুধু চায়ের ধরন নয়, কখন পান করছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে এবং শারীরিক প্রয়োজন অনুযায়ী চা পানের অভ্যাস গড়ে তোলাই ভালো।


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি

ই-মেইল: kolom24news@gmail.com