মো. নূর নবী শেখ
সাভার-আশুলিয়ায় তৈরি পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন এবং দেশি-বিদেশি চক্রান্ত রয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি ও তাদের ইন্ধনদাতাদের বিষয়ে পুলিশের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে বলেও জানিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
একই সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উলাইল এলাকায় আল মুসলিম গ্রুপের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন।
মজুরি বোর্ড গঠনের পরও শ্রমিক আন্দোলন অব্যাহত থাকা এবং সহিংসতার পেছনে তৃতীয় কোনো পক্ষের ইন্ধন রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আপনারা জানেন, গতকাল সকালে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। মজুরি বোর্ড তার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।’
শ্রমিকদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে।
তবে মজুরি বোর্ড গঠনের পরও যারা শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন বলে মন্তব্য করেন ডিআইজি। তিনি বলেন, ‘তাদের উদ্দেশ্য তো ভিন্ন। শ্রম সেক্টরের কল্যাণ তাদের উদ্দেশ্য নয়। তাদের উদ্দেশ্য অন্য কিছু। কোনোমতেই তাদের উদ্দেশ্য সফল করতে দেওয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী যা যা দরকার, পুলিশ সবকিছুই করবে।’
শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিকারী ব্যক্তি ও তাদের ইন্ধনদাতাদের বিষয়ে পুলিশ তথ্য সংগ্রহ করছে জানিয়ে ডিআইজি বলেন, ‘পুলিশের কাছে ইতিমধ্যে এ-সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। এসব তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম অব্যাহত আছে। যারাই অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের কেউ রয়েছেন কি না, জানতে চাইলে ডিআইজি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা যে রাজনৈতিক দলেরই হোন না কেন, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চলমান আন্দোলন ও সহিংসতার ঘটনায় ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানাতে পারেননি কর্মকর্তারা।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি
ই-মেইল: kolom24news@gmail.com