২৫ অক্টোবর ২০২৬
preview
কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, কারাগারে ‘ছাত্রদল নেতা’

মো. নূর নবী শেখ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ১৪ বছর বয়সি এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (২৫ অক্টোবর) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে, শনিবার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুই আসামি মো. ইমন ও নুরুল আবছারকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার হওয়া প্রধান আসামি মো. ইমন (২৩) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজেকে ‘উত্তর সাতকানিয়া সাংগঠনিক উপজেলা ছাত্রদলের সংগঠক’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির ছবি ও পোস্ট প্রকাশ করে আসছিলেন।

সাতকানিয়া থানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ডেলিপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভুক্তভোগী কিশোরীকে সেখানে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১)/৩০ ধারায় সাতকানিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুই আসামি মো. ইমন ও নুরুল আবছারকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনতে একাধিক টিম কাজ করছে।

এদিকে গ্রেফতারের পর ইমনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিতে নিজেকে ‘উত্তর সাতকানিয়া সাংগঠনিক উপজেলা ছাত্রদলের সংগঠক’ পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ, মিছিল, দলীয় কর্মসূচি এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে তোলা ছবি নিয়মিত প্রকাশ করতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের অনেকেই জানান, এসব পোস্টের কারণে এলাকায় তিনি ওই পরিচয়েই পরিচিত ছিলেন। তবে তার সাংগঠনিক পদমর্যাদা সম্পর্কে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি

ই-মেইল: kolom24news@gmail.com